গর্ভাবস্থায় রক্ত বৃদ্ধি করার উপায় কোন খাবারে রক্ত ও হিমোগ্লোবিন বাড়ে । রক্তশূন্যতা দূর করার উপায় ।
আসসালামু আলাইকুম , মানুষের শরীরে রক্ত অতি প্রয়োজনীয় । মানুষের শরীরে হিমোগ্লোবিন ও লোহিত রক্তকণিকা প্রতিটা মানুষের সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই প্রয়োজন । আর মানুষের শরীরে নির্ধারিত পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে । এর ফলে মানুষের শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এ সকল উৎসর্গ দেখা দিতে পারে এই অবস্থাকে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয় ।
এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা আজকে কি কি জানতে পারবো ?
- গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত ?
- গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ?
- আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষণের জন্য কী করবেন?
- রক্তস্বল্পতার সাধারণ লক্ষণ গুলো কি কি ?
- হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত নয় ?
মানুষের শরীরে রক্তশূন্যতার এই বিষয়গুলো ছাড়াও অন্যান্য বিষয়গুলোও নিচের দেওয়া হবে । ধাপে ধাপে রক্তস্বল্পতা সম্পর্কে নিচে দেয়া হলো।
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত ?
রক্ত বৃদ্ধি করার জন্য কোন খাবার খাবেন । রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণে আয়রন, ভিটামিন B12, ফোলেট ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। খাবারগুলো তালিকা দেওয়া হলো ।
1. কলিজা
গরু বা মুরগির কলিজায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন B12 থাকে । এছাড়া কলিজায় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে । তবে অতিরিক্ত না খেয়ে নির্ধারিত পরিমান খেতে হবে ।
2. মাংস
গরু বা অন্যান্য মাংসে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ,ভিটামিন ও প্রোটিন রয়েছে । পরিমিত পরিমাণ মাংস খাওয়া যেতে পারে ফলে রক্তশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করবে ।
3. মাছ
বাঙালি সবচেয়ে পছন্দের খাদ্যের মধ্যে রয়েছে মাছ । প্রোটিনের ভালো উৎস মাছ কিছু কিছু মাসে ভিটামিন B12 রয়েছে । তাই প্রতিদিনের খাদ্যের তালিকায় মাছ রাখা ভালো ।
4. ডাল ,ছোলা ও সিম জাতীয় খাবার
মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও বিভিন্ন শিমজাতীয় খাবারে উদ্ভিজ্জ আয়রন, ফোলেট ও প্রোটিন রয়েছে। যারা প্রাণিজ জাতীয় খাবার কম খেয়ে থাকেন তারা এইগুলো খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন ।
5. সবুজ শাকসবজি
সবুজ শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে , কচু শাক প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। পালং শাক বা অন্যান্য শাক জাতীয় খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা ভালো এতে দ্রুত রক্তস্বল্পতা দূর হবে ।
6.ডিম
খাদ্য তালিকায় ডিম রাখা ভালো এতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে সুষম খাদ্য হিসেবে ডিম রাখা ভালো ।
7. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল
পিয়ারা, লেবু, কমলা ,আমলকি, ও অন্যান্য ভিটামিন সি জাতীয় ফল শরীরে আয়রন শোষণ করতে পারে । তাই এই ধরনের ফল রাখা উপকারী ।
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ?
গর্ব অবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া বা মায়ের দেহে রক্ত কমে যাওয়া বিভিন্ন কারণ রয়েছে । সাধারণত মায়ের শরীরে রক্তের তরল অংশ বেড়ে যাওয়া এবং একই সঙ্গে শিশুর বৃদ্ধির জন্য আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া। এসব কারণে গর্ব অবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে যায় । তার বিস্তারিত দেওয়া হলো।
- আয়রনের ঘাটতি — সবচেয়ে সাধারণ কারণ। গর্ভাবস্থায় শিশুর বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত রক্ত তৈরির জন্য বেশি আয়রন প্রয়োজন হয়।
- ফোলেটের ঘাটতি — লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ফোলেট প্রয়োজন।
- ভিটামিন B12-এর ঘাটতি — B12 কম থাকলেও রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
- খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া — আয়রন, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি হলে ঝুঁকি বাড়ে।
- আগে থেকেই রক্তস্বল্পতা থাকা — গর্ভধারণের আগেই হিমোগ্লোবিন কম থাকলে গর্ভাবস্থায় তা আরও কমতে পারে।
- যমজ বা একাধিক সন্তান — একাধিক শিশুর ক্ষেত্রে আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টির চাহিদা আরও বেশি হয়।
- ঘন ঘন গর্ভধারণ — এক গর্ভধারণের পর শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হওয়ার আগেই আবার গর্ভধারণ হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এসব কারন গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে এ সময় পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে ।
আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষণের জন্য কী করবেন?
আইরন ভালোভাবে শোষণের জন্য খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি জাতীয় খাবার রাখতে হবে । রক্তস্বল্পতা কমাতে কীভাবে খাবার খাবেন? সাধারণত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেলে শরীরে আয়রন শোষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় । তাই অবশ্যই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে হবে যেমন লেবু, কমলা, আমলকি, পেয়ার, এই ধরনের ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে হবে ।
রক্তস্বল্পতার সাধারণ লক্ষণ গুলো কি কি ?
মানুষের শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেই লক্ষণ গুলো নিচে দেওয়া হলো।
- অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি
- মাথা ঘোরা
- ত্বক ফ্যাকাশে দেখানো
- স্বাভাবিক কাজেই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়া
- শ্বাসকষ্ট
- বুক ধড়ফড় করা
- মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
এই সমস্যা গুলো দেখা দিলে ধারণা করা যায় রক্তস্বল্পতা থাকতে পারে তাই দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং সঠিক পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে হবে ।
হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত নয় ?
হিমোগ্লোবিন কম হলে কিছু খাবার না খাওয়া ভালো যেমন, চা অথবা কফি এটি আয়রন শোষণে বাধা প্রধান করতে পারে । দুধ ও অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার/সাপ্লিমেন্ট — আয়রনের ওষুধের সঙ্গে একই সময়ে না নেওয়াই ভালো; চিকিৎসকের দেওয়া সময়সূচি অনুসরণ করুন।
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন বাড়ে কোন খাবারে ?
অনেকেই জানতে চান করবো অবস্থায় হিমোগ্লোবিন পারে কোন খাবারে , মানুষের দেহের জন্য খাবার অপরিহার্য । কিছু খাবার হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে । গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন বাড়ে খাবারে মধ্যে রয়েছে : মুরগি বা গরুর কলিজা, কচুর শাক, ডিম, দুধ, মাংস, ভিটামিন সি জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে মালটা, লেবু , আমলকি ইত্যাদি , এসব খাবারে একজন মায়ের গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এসব খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি ।






